www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৪ জানুয়ারি, ২০২৫: ঘুষ দেওয়ার মামলায় জেল-জরিমানা হচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্মের। জানা গছে ২০০৬ সালে নেভাডা অঙ্গরাজ্যে একটি হোটেলে ট্রাম্পের সঙ্গে  স্টর্মি ড্যানিয়েলসের যৌন সম্পর্ক হয়। সে ঘটনা চেপে যেতে ব্যক্তিগত আইনজীবীর মাধ্যমে এর ১০ বছর পর ২০১৬ সালে তাকে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার দেন ট্রাম্প। সে সময় ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।

তবে নিউইয়র্কের বিচারক জুয়ান মার্চান শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে কারাদণ্ড বা জরিমানা না দিয়ে ‘শর্তহীন খালাস’ দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি তার আদেশে লিখেছেন যে ট্রাম্প সশরীরে কিংবা ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জয়কে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা বাতিলের জন্য ব্যবহার করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে দেয়া একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিচারকের ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘অবৈধ রাজনৈতিক হামলা’ এবং ওই মামলাকে একটি ‘সাজানো পরিহাস’ বলে বর্ণনা করেছেন।

বিজ্ঞাপনপর্ণ তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দেয়ার বিষয়টি জালিয়াতির মাধ্যমে নথিতে গোপন রাখার বিষয়ে মি. ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৩৪টি অভিযোগ আনা হয়েছিলো।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিকে মি. ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন ওই অর্থ ড্যানিয়েলসের হাতে তুলে দিয়েছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে এ মামলায় নির্দোষ দাবি করেছেন। তার দাবি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় ক্ষতি করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে।

বিচারক মার্চান বলেছেন ট্রাম্পের উদ্বেগের বিষয়গুলোতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ তিনি পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তার হাতে যেসব বিকল্প আছে তার একটি হলো দণ্ডাদেশ বাস্তবায়ন ২০২৯ সালে তার হোয়াইট ছাড়া পর্যন্ত বিলম্বিত করা কিংবা দণ্ড দিলেও তার সাথে জেলে থাকার বিষয়টি থাকবে না।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের আদেশে প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য তিনি দায়মুক্ত থাকবেন বলে যে আদেশ দিয়েছিলো, সেটিকে আদালতের সামনে যুক্তি হিসেবে নিয়ে আসার চেষ্টা করে সফল হননি। গত জুলাই সুপ্রিম কোর্ট ওই আদেশ দিয়েছিলো।

গত মাসে ট্রাম্পের ঘুষের মামলা খারিজ চেয়ে যে আবেদন করা হয়েছিলো তা খারিজ করে দিয়েছিলেন বিচারক মার্চান।

ট্রাম্প এখন হোয়াইট হাউজের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে দণ্ড পেতে যাচ্ছে। তবে দণ্ড পাওয়ার পর তিনি আপিলের উদ্যোগ নিতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নথি জালিয়াতির মামলায় চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান আছে কিন্তু নূন্যতম দণ্ড বা কারাবাস অবশ্য পালনীয় নয়।

তবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলে যাবেন না বলেই মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও তিনটি রাজ্যে অভিযোগ ও ফেডারেল ক্রিমিনাল মামলা আছে। এর একটি গোপনীয় নথি বিষয় আর দুটি হলো ২০২০ সালের নির্বাচনি ফল সংক্রান্ত ।

এর আগে গত ২৬শে নভেম্বর তার বিরুদ্ধে দণ্ড দেয়ার কথা ছিলো কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতায় বিচারক তা পিছিয়ে দিয়েছিলেন।