www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫: জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের সমস্যা সমাধান খুঁজতে গিয়ে সংকট ঘনীভূত করা উচিত হবে না।  ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তর করে গাজা দখলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের সমালোচনা করে জাতিসংঘ মহাসচিব একথা বলেন । বুধবারের (৫ ডিসেম্বর) বক্তব্যে গাজায় জাতিগত নির্মূল এড়াতে ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

গুতেরেস বলেছেন, সমাধান খুঁজতে গিয়ে সংকট আরও ঘনীভূত করা উচিত হবে না। আন্তর্জাতিক আইনের মৌল ভিত্তির প্রতি বিশ্বস্ত থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনও রকম জাতিগত নিধন এড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেছেন, দুই রাষ্ট্র সমাধানের বিষয়ে আমাদের স্থির থাকতে হবে।

সরাসরি ট্রাম্পের নাম বা তার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেননি গুতেরেস। তবে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফানি ডুজারিক সাংবাদিকদের বলেন, মহাসচিবের বক্তব্যকে ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

বুধবার জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গুতেরেস আলোচনা করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর জানান, বাদশাহ আবদুল্লাহ আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং আরব দেশগুলোর পক্ষ থেকে সমন্বিত বার্তা পৌঁছে দেবেন।

মানসুর বলেছেন, ফিলিস্তিন আমাদের একমাত্র দেশ আর গাজা এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা কখনও এখান থেকে যাব না। পৃথিবীর কোনও শক্তিই পূর্বপুরুষের ভূমি থেকে আমাদের সরাতে পারবে না।

গাজা পুনর্গঠন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেছেন, আমরা এটি পুনর্নির্মাণ করতে চাই। এজন্য আমরা বিশ্ববাসীর সহায়তা কামনা করছি। আমরা অন্য কোনও নতুন বাসস্থান খুঁজছি না।

দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জন্য দুটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে সমর্থন করে আসছে জাতিসংঘ। এই প্রস্তাব অনুযায়ী উভয় রাষ্ট্র নিরাপদ ও স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে সহাবস্থান করবে।

পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা ভূখণ্ডে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চায় ফিলিস্তিনিরা। উল্লেখ্য, এই তিন অঞ্চলই ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল দখল করে নেয়।

২০২৩ সালে অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ইসলায়েল প্রায় ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে গজায় বর্বর হামলা চালিয়ে এসেছে। বিভিন্ন মহলের তৎপরতায় অবশেষে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব মেনে নিয়েছে দুই পক্ষ। এর পর নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোলাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের সমালোচান করেন  জাতিসংঘ মহাসচিব।