www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫: চীনের কিছু পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ককর আরোপ করেন। এবার আমেরিকার কিছু পণ্যের ওপর চীন আমদানি কর আরোপ করেছে। যা আজ সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ জোরদার হলো।

সব ধরনের চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশ করারোপের পর গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি বেইজিং এ ঘোষণা দিয়েছিলো।

গতকাল রবিবার ট্রাম্প বলেছেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সব স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। এ বিষয়ে আজ সোমবার পূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।

এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাস্প  বলেছেন, তিনি আরও কিছু দেশের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছেন। তবে কোন কোন দেশ এ ক্ষেত্রে তার টার্গেট হবে তা সুনির্দিষ্ট করে তিনি বলেননি।

চীন সর্বশেষ কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ১৫ শতাংশ আমদানি করসহ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলো। এছাড়া আমেরিকান অপরিশোধিত তেল, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং বড় ইঞ্জিনের গাড়ির ওপর দশ শতাংশ শুল্কও আরোপ করা হয়েছিলো।

গত সপ্তাহে, চীনা কর্তৃপক্ষ প্রযুক্তি খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান গুগলের বিরুদ্ধে অ্যান্টি মনোপলি তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়া ডিজাইনার ব্রান্ড কালভিন ক্লেইন অ্যান্ড টমি হিলফিগার এর যুক্তরাষ্ট্রের মালিক পিভিএইচকে কথিত ‘আনরিলায়েবল এনটিটি’ তালিকায় যুক্ত করেছে।

চীন একই সঙ্গে ২৫ ধরনের বিরল ধাতব পদার্থের ওপর শুল্ক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এগুলো অনেক ধরনের বৈদ্যুতিক পণ্য ও সামরিক উপকরণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এর আগে কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক এড়াতে সমঝোতায় পৌঁছানোর কয়েকদিন পর ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে কানাডা, মেক্সিকো ও ব্রাজিলসহ কয়েকটি বাণিজ্য অংশীদারকে শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধা দিয়েছিলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করের বিষয়টি বাইডেন প্রশাসন হোয়াইট হাউজে আসার আগে পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এবারেও কোন দেশ নতুন শুল্ক পরিকল্পনার বাইরে থাকবে কি না সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

তবে নতুন শুল্ক পরিকল্পনায় কোন দেশগুলো ছাড় পাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ট্রাম্পের লক্ষ্য তার নির্বাচনি প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা, যেখানে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর অন্য দেশগুলো যদি শুল্ক আরোপ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে।

তিনি দাবি করে আসছেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত গাড়ির ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করছে, যা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক ।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা