www.HelloBangla.Newsঅর্থনীতি২৫  জানুয়ারি, ২০২: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যভিত্তিক আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। আর্জেন্ট এলএনজি বর্তমানে লুইজিয়ানায় বার্ষিক ২৫ মিলিয়ন টন (এমটিপিএ) এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতার অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি বাধ্যবাধকতাহীন (নন–বাইন্ডিং) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাদের কাছ থেকে বছরে ৫ মিলিয়ন (৫০ লাখ) টন এলএনজি কিনবে বাংলাদেশ।

আর্জেন্ট এলএনজির বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্ট এলএনজি তাদের উৎপাদনসীমা বছরে ২৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করছে। তাদের নতুন এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে তারা বছরে ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি বিক্রি করতে পারবে।

খবরের তথ্য অনুযায়ী, লুইজিয়ানার দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর ‘পোর্ট ফোরচনে’ একটি বড় এলএনজি প্রকল্প করছে ‘আর্জেন্ট এলএনজি’। তাদের এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পেট্রোবাংলার কাছে এলএনজি বিক্রি শুরু করতে পারে কোম্পানিটি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম মার্কিন এলএনজি সরবরাহ চুক্তি। দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নেই; এমন দেশগুলোতে ‘সুপার-চিল্ড’ গ্যাস রফতানির লাইসেন্সের ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক দেশ এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এই রফতানির পরিমাণ দ্বিগুণ হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে তার দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছে এবং এলএনজির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে তবে তাদের বাজার মূল্যসংবেদনশীল যার কারণে ২০২২ সালে ইউক্রেনরাশিয়া যুদ্ধ শুরুর সময় এলএনজির দাম বেড়ে গেলে বাংলাদেশ সস্তা কয়লার দিকে ঝুঁকেছিল  

মার্কিন প্রতিষ্ঠান আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে এই চুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এটিকে ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ উল্লেখ করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, ‘বাংলাদেশে গ্যাসের বিশাল সংকট। ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ, কর্মসংস্থান ইত্যাদির জন্য আমাদের লং টার্ম গ্যাস সাপ্লাই সলিউশন বের করতেই হবে। মিডল ইস্টের বাইরে আমেরিকা একটা ইন্টারেস্টিং অলটারনেটিভ।’