www.HelloBangla.Newsআন্তর্জাতিক২০  জানুয়ারি, ২০২: স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণ করবেন।  এক সময় মার্কিন ধনকুবের হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। কিন্তু এখন এই মার্কিন ব্যবসায়ীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশটির প্রেসিডেন্ট। এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মসনদে বসতে যাচ্ছেন। 

২০১৬ সালে প্রথমবার যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিলেন তখন অনেকেই ভাবেননি যে তিনি জয়ী হবেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের মতো তুমুল জনপ্রিয় প্রার্থীকে পরাজিত করেন। ওই নির্বাচনে হিলারি এবং ট্রাম্পের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল এবং শেষ হাসি হেসেছিলেন ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ফেরা বৈশ্বিক রাজনীতি ও নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে পারে বলে মানে করা হচ্ছে। অনেক বিষয়ের মধ্যে সবথেকে আলোচিত বিষয়টি হচ্ছে অভবাসন নিয়ে পরিকল্পনাটি। 

অভিবাসন নিয়ে, ট্রাম্প লাখ লাখ অনথিভুক্ত বা অবৈধ অভিবাসীকে বিতাড়িত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের পরিকল্পনা করেছেন। তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কঠোর করা। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার এই পরিকল্পনাগুলো আইনি, লজিস্টিক এবং আর্থিক দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

কেননা মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী, যা ১৮৬৮ সালে গৃহীত হয়েছিল, এটি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করে। এই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা প্রাকৃতিকীকৃত সব ব্যক্তিই, যারা এখানকার আইনি বিচারাধীন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এবং তাদের রাজ্যের নাগরিক।’ এই নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সবাই, যাঁদের মা–বাবা বৈধ নাগরিক নন কিংবা অবৈধ অভিবাসী, এমনকি অস্থায়ী ভিসাধারী হলেও, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পান। ১৪তম সংশোধনী শুধু অভিবাসীদের জন্যই নয়, বরং এটি আমেরিকান সমাজে সাম্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

 

তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন রূপ দেয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

 

ইউক্রেন:

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ একদিনেই শেষ করতে পারবেন, তবে তিনি কীভাবে সেটা করবেন, তা বিস্তারিত বলেননি।

তিনি ইউক্রেনকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়ার সমালোচনা করেছেন। এতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে, তিনি হয়তো ইউক্রেনকে আঞ্চলিক সমঝোতা করতে চাপ দিতে পারেন। ট্রাম্পের মনোনীত বিশেষ দূত, কিথ কেলগ, ১০০ দিনের মধ্যে এ সংকট সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছেন এবং ইউক্রেনকে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার শর্তে সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন।

 

নেটো:

ট্রাম্প নেটো নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি ইউরোপীয় সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছেন। যদিও তিনি নেটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের কথা স্পষ্ট করেননি। তবে তিনি ইউরোপে মার্কিন সেনাদের সংখ্যা কমিয়ে নেটোকে দুর্বল করে দিতে পারেন।

 

মধ্যপ্রাচ্য:

মধ্যপ্রাচ্যে, ট্রাম্প ইসরায়েলপন্থী অবস্থান ধরে রাখবেন। তিনি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ভিত্তিতে সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের মধ্যে চুক্তি করার চেষ্টা করতে পারেন। ইরানের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক প্রতিরোধ জারি করতে পারেন। গাজার যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও তার নেতৃত্বের পরীক্ষা নেবে।

 

চীন:

চীনের প্রতি ট্রাম্পের কঠোর মনোভাব আরও তীব্র হতে পারে। তিনি চীনা পণ্যের উপর ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। তার প্রশাসন চীনকে একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখে, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করলেও তাইওয়ানের প্রতি চীনের যেকোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন।

 

জলবায়ু পরিবর্তন:

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে, ট্রাম্প আবার প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিতে পারেন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে পারেন। তিনি সবুজ শক্তির জন্য আর্থিক প্রণোদনা কমানো এবং তেল ও গ্যাস ড্রিলিং বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যা বৈশ্বিক জলবায়ু প্রচেষ্টাকে ধীর করতে পারে, তবুও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বিশ্বের ধাবমান প্রবণতা থামবে না।

 

গ্রিনল্যান্ড এবং পানামা খাল:

ট্রাম্প কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা উল্লেখ করে গ্রিনল্যান্ড কেনার এবং পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ব্যাপারে তার বিতর্কিত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন। যদিও এই পদক্ষেপগুলো সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে এটি বিশ্বব্যাপী মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি প্রকাশ করে।

অনেক প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে আজ দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, এবং দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশের ঝড় তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সমর্থকদের তিনি বলেছেন যে শপথ নেওয়ার পরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ‘ঐতিহাসিক গতি এবং শক্তি’ নিয়ে কাজ করবেন। সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ওয়ান এরেনায় বিজয় সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে বক্তব্য দেয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

সেইসঙ্গে তিনি তার আসন্ন চার বছরের পরিকল্পনার কথা জানান। সেইসাথে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে তার নভেম্বরের বিজয় উদযাপন করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া, পরিবেশ রক্ষায় নিয়মের কড়াকড়ি কমানো এবং ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম বন্ধ করার মতো বড় বড় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।

ট্রাম্প সমাবেশে বলেন, “আমরা আমেরিকাকে প্রথমে রাখবো, আর কাল থেকেই এর কাজ শুরু হবে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শপথ নেওয়ার পর তিনি তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন। তার ভাষণের মূল বিষয় হবে ঐক্য, শক্তি এবং “ন্যায়বিচার”।

সূত্র: বিবিসি বাংলা