www.HelloBangla.Newsবিনোদন১৯  জানুয়ারি, ২০২: বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের ওপর হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাংলাদেশের নাগরিক, এমনটাই দাবি করেছে মুম্বাই পুলিশ। আজ রবিবার (১৯ জানুয়ারি) ভোরে মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম শেহজাদ নামে ৩০ বছর বয়সী ওই যুবককে অভিনেতার বাড়ির ৩৫ কিলোমিটার দূর থেকে আটক করা হয়। এরপরই এক সংবাদ সম্মেলনে মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, সাইফ আলি খানের হামলাকারী ভারতে ঢোকার পর নাম বদলে বিজয় দাস রেখেছিল।

এদিকে আনন্দবাজার জানিয়েছে আদালতে হাজির করা হয় উক্ত অভিযুক্তকে। পরে শেহজাদের আইনজীবী সন্দীপ শেখানে দাবি করেন, তার মক্কেল যে বাংলাদেশের নাগরিক, এমন কোনও প্রমাণ পুলিশের হাতে নেই। গত সাত বছর ধরে সপরিবার শরিফুল মুম্বাই এলাকায় বাস করছেন বলেও দাবি করেন সন্দীপ।  

তিনি আরও বলেন, “পুলিশের কাছে এমন কোনও তথ্য নেই যা থেকে প্রমাণ হয় শেহজাদ বাংলাদেশের নাগরিক। তা ছাড়া, উনি গত পাঁচ মাস এই এলাকায় থাকছিলেন, এ তথ্যেরও সত্যতা নেই। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করাই হয়নি, এতে ৪৩ এ ধারা ভঙ্গ হচ্ছে।”

তাই এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, অভিযুক্ত শেহজাদ আসলে কোন দেশের নাগরিক?

বিবিসি জানিয়েছে, সকালে মুম্বাই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার দীক্ষিত গেদাম সাংবাদিকদের জানান, সাইফ আলি খানের বাড়িতে ‘বার্গলারি’র ঘটনায় আটক ব্যক্তির নাম মহম্মদ শরিফুল ইসলাম শেহজাদ এবং প্রাথমিক তদন্তে তাকে একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবেই চিহ্নিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা মনে করছি ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে মাসকয়েক আগেই ভারতে ঢুকেছে। তারপর থেকে সে মুম্বাই ও তার আশেপাশে বিভিন্ন শহরেই ছোটখাটো নানা কাজ করছিল।”

“তার কাছে ভারতীয় কোনও প্রমাণপত্র মেলেনি। আমরা অন্যান্য অভিযোগের সঙ্গে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে তার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট অ্যাক্টেও মামলা রুজু করেছি”, জানান মি গেদাম।

মুম্বাই পুলিশ সুত্রে আরও বলা হয়েছে, শরিফুল ইসলাম শেহজাদ বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলার বাসিন্দা বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি শহরের কাছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে সে পাঁচ-ছয়মাস আগে ভারতে প্রবেশ করে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ভোররাতের কিছু আগে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অভিনেতা সাইফ আলি খানের বহুতল সোসাইটির অ্যাপার্টমেন্টে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ঢুকে পড়ে হামলা চালালে অভিনেতা বাধা দিতে গিয়ে ছুরিকাহত হন। মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে সেদিনই গুরুতর আহত সাইফ আলি খানের অস্ত্রোপচার হয়। তিনি এখন বিপদমুক্ত ও ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।