www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ০৯ জানুয়ারি, ২০২৫: বিশ্বজুড়ে অনেক অনন্য গল্প রয়েছে, তবে উগান্ডার মারিয়াম নাবাতাঞ্জির গল্পটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। মাত্র ১২ বছর বয়সে বিয়ে হওয়া মারিয়াম, জীবনে ১৫ বার গর্ভধারণ করেন এবং ৪৬টি সন্তানের জন্ম দেন। তার অসাধারণ মাতৃত্ব ও সংগ্রামের কাহিনী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে তিনি ৩৮ জন জীবিত সন্তানের মা। এত বড় পরিবারের দায়িত্ব একা হাতে বহন করে তিনি সবার কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।

প্রারম্ভিক জীবন ও বিয়ে

মারিয়ামের জন্ম উগান্ডার একটি দরিদ্র পরিবারে। মাত্র ১২ বছর বয়সে, তাকে ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। ১৩ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার মা হন। খুব অল্প বয়সে এত বড় দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও তিনি নিজের পরিবারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান।

বিরল শারীরবৃত্তীয় অবস্থা

মারিয়ামের এত সংখ্যক সন্তান জন্ম দেওয়ার পেছনে একটি বিরল জেনেটিক অবস্থা দায়ী, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় হাইপারওভুলেশন। এই অবস্থায় একজন নারীর ডিম্বাশয় থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক ডিম্বাণু মুক্ত হয়। ফলে যমজ বা ত্রয়ী সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তার গর্ভধারণগুলোর মধ্যে ছিল—

এই ধরনের গর্ভধারণের ফলে তার মোট সন্তান সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬।

পরিবার পরিচালনার চ্যালেঞ্জ

২০১৫ সালে, মারিয়ামের স্বামী তাকে ও তার সন্তানদের ছেড়ে চলে যান। সেই থেকে তিনি একাই তার বিশাল পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এত বড় পরিবারের খরচ চালানো তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হলেও তিনি কখনো হাল ছেড়ে দেননি।

পরিবারের খরচ চালাতে তিনি বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। তার জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি—

সন্তানদের জীবন

মারিয়ামের বড় সন্তানরা ঘরের কাজে তাকে সাহায্য করে। কেউ কেউ পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটখাটো কাজও করে, যাতে পরিবারের জন্য কিছু আয় করা যায়। বড় ভাইবোনরা ছোটদের দেখাশোনা করে এবং পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নেয়।

চিকিৎসা ও প্রজনন বন্ধ

বারবার গর্ভধারণের ফলে মারিয়ামের স্বাস্থ্য ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১৯ সালে, চিকিৎসকদের পরামর্শে তার প্রজনন ক্ষমতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে তিনি আর গর্ভধারণ না করতে পারেন।

অর্থনৈতিক সংগ্রাম

মারিয়ামের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তার পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, পোশাক এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করা। এত বড় পরিবারের জন্য প্রতিদিনই প্রচুর পরিমাণে খাবার দরকার হয়। স্থানীয় কিছু দাতব্য সংস্থা এবং ভালো মানুষ তার পরিবারকে মাঝে মাঝে সহায়তা করে। তবে, বেশিরভাগ সময়ই তাকে নিজের চেষ্টাতেই পরিবারের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে হয়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

মারিয়ামের জীবনের এই অবিশ্বাস্য কাহিনী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। তার সংগ্রামী জীবনের প্রতি সম্মান জানিয়ে অনেক সংস্থা তার পরিবারের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মায়েদের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

উপসংহার

মারিয়াম নাবাতাঞ্জির জীবন শুধুমাত্র ৪৬ সন্তানের মা হওয়ার জন্য নয়, বরং একজন সংগ্রামী নারীর প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। এত বড় পরিবারের দায়িত্ব একা হাতে সামলানো সহজ কাজ নয়, তবে তিনি তার দায়িত্ব থেকে কখনো পিছপা হননি। তার এই জীবনসংগ্রাম আমাদের শেখায় যে, চরম প্রতিকূল অবস্থাতেও সাহস, মনের জোর এবং ভালোবাসা দিয়ে যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।