www.HelloBangla.Newsরাজনীতি১১ জানুয়ারি, ২০২: নতুন বাংলাদেশ গড়তে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “বৈষম্য দূর করতে তরুণদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই। এখানে আমাদের কোনও বিভেদ নেই।”

আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ১ম জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বাংলাদেশকে নতুন করে নির্মাণ করার যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের একটু ধৈর্য ধারণ করতে হবে। হঠকারিতা করে, ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে, ভুল পদক্ষেপ নিয়ে— সেই সম্ভাবনাকে বিনষ্ট না করি, সেটা আমাদের সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “এখন যেটা প্রয়োজন, সব উসকানির পরেও আমরা যেন সিদ্ধান্তে অটল থাকি। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই, বৈষম্য দূর করতে চাই, বাংলাদেশের তরুণদের হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই। এখানে আমাদের কোনও বিভেদ নেই।”

তিনি বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব ভালো নয়। রাজনৈতিক দিক দিয়ে ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। আমরা সেটাকে একসঙ্গে লড়তে (মোকাবিলা করতে) চাই। সবাই মিলে এই সমস্যাগুলোকে সমাধান করতে চাই।”

নির্বাচনের পরে একটা ঐক্যবদ্ধ জাতীয় সরকার গঠন করতে চায় বিএনপি জানিয়ে ফখরুল বলেন, “সবাই মিলে রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চাই। যারা অন্যান্য দলে আছে তারা অবশ্যই এটা ভাববেন ও  চিন্তা করবেন। তারা তাদের যে মতামত সেটা দেবেন।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা সংস্কারের কথা আগেই বলেছি, আবারও বলছি আমরা সংস্কার চাই। কিছু কিছু মানুষ আছেন, তারা একটু বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, আমরা সংস্কারের আগেই নির্বাচন চাই বা নির্বাচনের জন্য অস্থির হয়ে গেছি। বিষয়টা তেমন না। আমরা যেটা বলছি, নির্বাচন কেন দ্রুত চাই? এই কারণে দ্রুত চাই যে, নির্বাচনটা হলেই আমাদের শক্তি আরও বাড়বে। সরকার থাকবে, সংসদ থাকবে। যে সংকটগুলো সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো দূর হয়ে যাবে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “৫ মাস পরে অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন আমাদের অর্জন কী? অর্জন হচ্ছে আজকে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে নিঃসংকোচে, নির্ভয়ে কথা বলতে পারছি। এটাই আমাদের একটা বড় বিজয় বলে মনে করি। এখানে এবি পার্টিরও একটা বড় ভূমিকা আছে।”

কাউন্সিলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির আহ্বায়ক মেজর (অব.) অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব মিয়া। উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, এলডিপি মহাসচিব রেদওয়ান আহম্মেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধান, ইসলামী আন্দোলনের আশরাফুল আকন্দ, শহীদ আবু সাঈদের পরিবার ও সাংবাদিক এম এ আজিজ সহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।

এসময় প্রথমেই পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠ করা হয়। পরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।