www.HelloBangla.Newsখেলাধুলা জানুয়ারি, ২০২: আজ দিনের প্রথম খেলাটি ছিলো বিপিএল এর ১৩ তম ম্যাচ। এই ম্যাচের শেষ ওভারে রংপুরের অধিনায়ক সোহান বরিশালের বিপক্ষে ৩০ রান নিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় এনে দিয়েছে দলের জন্য। সোহান ৭ বল খেলে করেছেন ৩২ রান। স্টইক রেট ৪৫৭.১৪। এর আগে বিপিএল এ এই ধরণের স্টাইক রেট নিয়ে জয়ে এনে দেওয়া ঘটনা ঘটেনি। 

জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৬ রান। ৬ বলেই বাউন্ডারি হাঁকালেন সোহান। প্রথম চার বলে ৬, ৪, ৪ ও ৬ হাঁকানোয় শেষ ২ বলে দরকার ছিল ৬ রান। পঞ্চম বলে হাঁকালেন ৪ আর শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রংপুরকে ৩ উইকেটের অবিশ্বাস্য এক জয় উপহার দেন সোহান।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সিলেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৭ রান সংগ্রহ করে ফরচুন বরিশাল। দলের হয়ে ২৯ বলে অপরাজিত ৬১ রান করেছেন কাইল মেয়ার্স। জবাবে খেলতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ইনিংসের শেষ বলে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় রংপুর।

রংপুরের হয়ে শুরুর লড়াইটা করেছেন এক বাংলাদেশি তাওফিক খান এবং দুই পাকিস্তানি ইফতিখার আহমেদ ও খুশদিল শাহ। ওপেনার তাওফিক ২৮ বলে ৩৮ রান করে ফেরেন। শেষ দিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের দলটিকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটি করছিলেন ইফতিখার ও খুশদিল।

শাহিন আফ্রিদির করা ১৮তম ইফতিখান উইকেটের পেছনে ক্যাচ হলে রংপুরের জয়টা পাওয়া কঠিনই বলে মনে হলো। ৩৬ বলে ৪৮ রান করে ফেরেন ডানহাতি পাকিস্তানি ব্যাটার। এরপর কিছু শট খেলে লড়াই অব্যাহত রাখেন খুশদিল। তবে জয়ের জন্য সেটি যথেষ্ট বলে মনে হয়নি। ২৪ বলে ৪৮ রান করে সাজঘরে ফেরত যান তিনি।

১৯তম ওভারে জাহানদাদের খানের করা ওভারে অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড আউট হন শেখ মেহেদী। স্ট্র্যাইটে খেলছিলেন মেহেদী। বোলার জাহানদাদ এগিয়ে ক্যাচ নিতে আসলে নন-স্ট্রাইকপ্রান্ত থেকে আসা নুরুল হাসান সোহান বাধা সৃষ্টি করেন।

মেহেদীর আউট হওয়ার দায় নিজের মাথায় নিয়েই বোধহয় অবিশ্বাস্য ইনিংসটি খেলেন সোহান। ৭ বলে তোলেন ৩২ রান। হাঁকান ৩ ছক্কা ও ৩ চার।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় বরিশাল  ৬১ বলে ৮১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে কামরুল ইসলাম রাব্বির শিকার হয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরলে রান খরায় ভুগতে থাকা এই ব্যাটার এদিন অবশ্য রান করেন

৩০ বলে চার ছক্কায় ৪১ রান করার পর খুশদিলের হাতে ক্যাচ দেন শান্ত ওই ওভারের প্রথম বলে শান্তকে আউট করার পর শেষ বলে তামিমকে ফেরান কামরুল রাব্বি চার ছক্কায় ৩৪ বলে ৪০ রান করে আউট হন তিনি

তৃতীয় উইকেটে বড় জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় কাইল মেয়ার্স ৩৫ বলে ৫৯ রানের এই জুটি ভাঙেন আকিফ জাভেদ ১৮ বলে চার সমান ছক্কায় ২৩ রান করে আউট হন তিনি বলে রান করে আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও  

এরপরই মেয়ার্সের সঙ্গী হন ফাহিম আশরাফ উইকেটে এসেই ঝড় তোলেন তিনি বলে ২০ রান আসে তার ব্যাট থেকে শেষ অবধি অপরাজিত থেকে ২৯ বলে ৬১ রান করেন মেয়ার্স

এর আগে ব্যাট করতে নেমে খুব দেখেশুনে শুরু করে ফরচুন বরিশাল। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথম ৮ বলে কোনো রানই নেননি।

এরপর আস্তে আস্তে হাত খুলতে শুরু করেন তারা। ৬১ বলে উদ্বোধনী জুটিতে তারা তোলেন ৮১ রান। ১১তম ওভারে দুজনকেই ফেরান কামরুল ইসলাম রাব্বি। শান্ত ৩০ বলে ৫ চার আর ১ ছক্কায় ৪১ এবং তামিম ৩৪ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৪০ করে আউট হন।

এরপর ঝড় তোলেন কাইল মায়ার্স। মাঝে ১৮ বলে একটি করে চার-ছক্কায় ২৩ করে আউট হন তাওহিদ হৃদয়। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও ৪ বলে ২ করে সাজঘরে ফেরেন। ফাহিম আশরাফের ব্যাট থেকে আসে ৬ বলে ২০ রানের ক্যামিও।

মায়ার্স শেষ পর্যন্ত ২৯ বলে ৬১ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। মারকুটে এ ইনিংসে একটি চারের সঙ্গে ৭টি ছক্কা হাঁকান এই ব্যাটার। এর মধ্যে শেষ ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনই হজম করেন ৩টি।

রংপুরের হয়ে ৪ ওভারে ৪২ রান খরচ করে একটি উইকেট পান সাইফউদ্দিন। ৩ ওভারে ৪৭ রানের বিনিময়ে কামরুল ইসলাম রাব্বির শিকার দুটি। নাহিদ রানা ৪ ওভারে ৪৭ দিয়েও উইকেটের দেখা পাননি। 

এ নিয়ে ৬ ম্যাচের সবগুলোতেই জিতলো রংপুর। অন্যদিকে ৫ ম্যাচে বরিশালের এটি দ্বিতীয় হার। দুই দলের প্রথম দেখায়ও বরিশালকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল রংপুর।