www.HelloBangla.News – অন্তর্জাতিক – ৫ জানুয়ারি, ২০২৫: প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হোয়াইট হাউস ছাড়ার দুই সপ্তাহ ইসরায়েলের কাছে ৮০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার করেন। অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি কংগ্রেসকে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ খবর প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করেছে, তার মধ্যে যুদ্ধবিমান এবং শত্রুকে আক্রমণ করতে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারের সামরিক রসদ রয়েছে। এ ছাড়া গোলা ও যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশেই নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র তালিকায় রয়েছে।
অস্ত্র বিক্রির এই প্যাকেজের মধ্যে ছোট ডায়ামিটার বোমা এবং ওয়্যারহেড রয়েছে বলেও অ্যাক্সিওসের খবরে জানানো হয়।
গাজায় বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কারণে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার যে আহ্বান জানানো হচ্ছে, তা ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করেছে। গত অগাস্টে যুক্তরাষ্ট্র দুই হাজার কোটি ডলার ফাইটার জেট ও অন্য সামরিক উপকরণ ইসরায়েলের কাছে বিক্রির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে “প্রেসিডেন্ট বাইডেন এটা পরিষ্কার করেছেন যে আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সাথে সঙ্গতি রেখে ইসরায়েলের নাগরিকদের আত্মরক্ষা এবং ইরান ও তার প্রক্সিদের আগ্রাসন প্রতিরোধের অধিকার আছে।”
বাইডেন বলেন “ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সরবরাহ আমরা অব্যাহত রাখবো”।
জো বাইডেন প্রায়শই ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে ‘অবিচ্ছেদ্য’ আখ্যায়িত করে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। এছাড়া দেশটি ইসরায়েলকে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সামরিক উপকরণ বানাতে সহায়তা করছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এসআইপিআরআই) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল সময়ের মধ্যে ইসরায়েল যত অস্ত্র আমদানি করেছে তার ৬৯ ভাগই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র দুই হাজার পাউন্ড ও পাঁচশ পাউন্ড ওজনের বোমার একটি চালান স্থগিত করেছিলো। গাজার দক্ষিণাঞ্চলে রাফাহ শহরে ইসরায়েলের স্থল অভিযানের উদ্বেগ থেকে তখন এ সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছিলো দেশটি। এতে ওয়াশিংটনের রিপাবলিকানরা তীব্র সমালোচনায় নেমে পড়েছিলো। পাশাপাশি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ‘অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার’ সাথে তুলনা করেছিলেন।
এরপর বাইডেন স্থগিতাদেশ আংশিক প্রত্যাহার করে নেন। এবার যে চালান পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা বাইডেন প্রশাসনের সাম্প্রতিক সময়ের অনেকগুলো পদক্ষেপের একটি। তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগে সম্ভবত এটাই ইসরায়েলের কাছে শেষ অস্ত্র বিক্রি। আগামী বিশে জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি এর আগে বিদেশে সংঘাত বন্ধের কথা জোর দিয়ে বলেছেন। এমনকি নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি কমিয়ে আনার কথা বলেছেন।
ট্রাম্প নিজেকে ইসরায়েলের একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে বলে থাকেন। তবে তিনি ইসরায়েলকে গাজার সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ করার আহবান জানিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা