www.HelloBangla.News – বিনোদন – ৩ জানুয়ারি, ২০২৫: কথাশিল্পী শওকত ‍ওসমানের ১০৮ তম জন্মবার্ষিকীর আলোচকরা বলেছেন, ‘শওকত ওসমানের লেখালেখিতে প্রতিফলিত হয়েছে শোষিত মানুষের মুক্তির আকুতি।’

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে এ আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। ২ জানুয়ারি ছিল শওকত ওসমানের ১০৮ জন্মশতবার্ষিকী।

আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, “চল্লিশের দশকে যে কয়েকজন তরুণ লেখক কথা ও কবিতায় আধুনিকতা এনেছিলেন, তার মধ্যে একজন ছিলেন শওকত ওসমান। তার লেখালেখিতে ইতিহাস-সচেতনতা ও বাস্তবতার তীক্ষ্ণ ক্ষমতা উপস্থিত ছিল।”

কথাশিল্পী শওকত ওসমানের কনিষ্ঠ পুত্র জাঁ-নেসার ওসমান স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “আমার পিতা ছিলেন আজীবন শোষকের বিরুদ্ধে।তার লেখোনীর মাধ্যমে তিনি পাকিস্তান আমলে শোষিতের কথা বলেছেন। ‘ক্রীতদাসের হাসি’ সর্বকালের স্বৈরশাষকের বিরুদ্ধে গণজাগরণের দিশারী।

সময় প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমদ বলেন, “শওকত ওসমানের কথা ও লেখায় শোষিত মানুষের মুক্তির কথা প্রকাশ পেয়েছে।”

কথা সাহিত্যিক মোহাম্মদ আলী শওকত ওসমানের জীবন দর্শন আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, শওকত ওসমান কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতেন না তিনি শিরদাঁড়া উঁচু করে চলতেন সাহস এবং শক্তি নিয়ে প্রকৃত সত্য তথ্য শুধু সাহিত্যে নয় প্রতিদিনের কলামের মাধ্যমে জনসাধারণের মাধ্যমে কাছে উপস্থাপন করতেন। তিনি ছিলেন একজন সব্যসাচী লেখক।

শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক দিপু সিদ্দিকী বলেন,শওকত ওসমান সত্যিকারের বিপ্লবী আর বিদ্রোহী লেখক ছিলেন। কলকাতায় ১৯২৯ সাল থেকে তিনি ফ্যাসিস্ট বিরোধী সাহিত্যিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি আমৃত্যু লড়াই করেছেন একজন লেখক হিসেবে। শুধু ঘরে বসেই তিনি তা করেননি প্রয়োজনে তিনি সভা সেমিনারে বক্তৃতা করেও তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ডক্টর দিপু সিদ্দিকী এই মহান কথা সাহিত্যিকের পূর্ণাঙ্গ রচনাবলী বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশ করার জন্য বর্তমান সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং বর্তমান সরকারের কাছে ঢাকায় যে কোন একটি প্রধান সড়কে তার নামে নামকরণ করার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের শেষে আলোচনা সভার সম্মানীত অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীদের শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে স্যুভেনির প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কথাশিল্পী শওকত ওসমানের ওপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এরপর আলোচনা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণমাধ্যমকর্মী এবং ব্যাংক কর্মকর্তা মেরিন নাজনীন।