www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৩ জানুয়ারি, ২০২৫: ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলছে ইসরায়েলি হামলা।প্রতিনিয়ত গাজা উপত্যকায় এই হামলা চলমান।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় নিহত হয়েছে ৭১ ফিলিস্তিনি।

নিহতদের মধ্যে উপত্যকার পুলিশ বাহিনীর প্রধান ও তার সহকারীও রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অবরুদ্ধ গাজায় ৩৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাতে নুসেইরাত শরণার্থী শিবির এলাকায় একটি আবাসিক ভবনেও হামলা হয়। তারও আগে আল মাওয়াসির ‘মানবিক অঞ্চলে’ এক উদ্বাস্তু শিবিরের তাঁবু হামলা চালায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দখলদার বাহিনী।

বিবিসির খবর অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিহতদের মধ্যে গাজার পুলিশ বাহিনীর প্রধান মাহমুদ সালাহ ও তার সহকারী হুসসাম শাহওয়ানও রয়েছেন। বর্ষীয়ান কর্মকর্তা সালাহ এই বাহিনীতে ৩০ বছরের বেশি সময় কাটিয়েছেন। ছয় বছর ধরে বাহিনীর প্রধান ছিলেন তিনি।

গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, দুই পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের জনগণের সেবায় তাদের মানবিক ও জাতীয় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ইসরায়েল বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গাজায় মানবিক সংকট গভীর করছে।

হামলার পরের ভিডিওতে দেখা যায়, জ্বলন্ত তাঁবুতে মানুষ বেঁচে থাকা লোকেদের খুঁজে ফিরছিল। হামলায় আশ্রয় শিবিরে কাপড় শুকানোর জন্য টানানো দড়িগুলোও জ্বলে গিয়েছিল।

দেইর আল-বালাহ থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তারেক আবু আজোম জানান, সর্বশেষ হামলাগুলোতে উত্তেজনা বেড়েছে। শহরের উপকণ্ঠে একটি গ্যাস স্টেশনে আরেক হামলায় নয়জন নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, মরদেহগুলো আল-আকসা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেই নির্মম হামলায় দেহগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

গত ১৪ মাসে গাজায় চিকিৎসাখাতের সহস্রাধিক পেশাজীবীকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বিশ্বের চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘গাজায় আপনাদের সহস্রাধিক সহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আরও অসংখ্য স্বাস্থ্যকর্মী গ্রেপ্তার, নির্যাতিত ও গুম হয়েছেন। এই অযাচিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এবং সহকর্মীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আপনাদের বিদ্রোহ করা উচিত। গণহত্যা বন্ধ না করা ও এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো উচিত আপনাদের। তাহলে কীজন্য অপেক্ষা করছেন?’