www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫: সুইডেনে প্রাপ্তবয়স্কদের একটি  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১০ জনের মতো নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিশ্বাস হামলাকারী নিহতদের মধ্যেই রয়েছে এবং তিনি তালিকাভুক্ত অপরাধি নয়।

তবে তার গুলিবর্ষণকারীদের সম্পর্কে এখনও কিছু স্পষ্ট হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি একাই এই হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত চারজনের অস্ত্রোপচার চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সুইডেনের মতো দেশে যেখানে এ ধরনের সহিংসতা একেবারেই বিরল সেখানে এখন পর্যন্ত স্কুলে গুলিবর্ষণের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা এটি। দেশটির স্টকহোম থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওরেব্রো শহরে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম গুলি চালানোর খবরটি পায় পুলিশ। রিসবার্গস্কা প্রাপ্তবয়স্কদের একটি স্কুল যেটি সুইডিশ ভাষায় কমভুক্স নামে পরিচিত। মূলত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেননি এমন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের এ স্কুলে শিক্ষাদান করা হয়। তবে ক্যাম্পাসে অন্যান্য স্কুলও রয়েছে।

শিক্ষকরা জানান, গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে তারা ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান অথবা সেখানেই আটকে পড়েন। মারিয়া পেগাডা রয়টার্সকে বলেছেন, ১৫ জন ছাত্রকে তিনি করিডোরে নিয়ে যান। পরে দৌড়ে পালাতে শুরু করেন।

মিস্টার পেগাডা নামে এক শিক্ষক বলেন,“আমি দেখলাম লোকজন আহতদের টেনে বের করছে, প্রথমে একজন, পরে আরেকজন। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে ঘটনাটি খুবই গুরুতর।”

পুলিশ ওই এলাকার ছয়টি স্কুল এবং একটি রেঁস্তোরা বন্ধ করে দিয়েছে। লোকজনকে তাদের বাড়ির ভেতর থাকতে পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। প্রায় ১০ জন নিহত হয়েছে বলে জানালেও পুলিশ নিহতের সংখ্যা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের সবাইকে স্কুল ভবনের ভেতর থেকে পাওয়া গেছে। তারা ধারণা করছে বন্দুকধারীও নিহতদের মধ্যে রয়েছে।

সুইডেনের বিচারমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “ কতজন আহত হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়, অনেক আহত হয়েছে”।

স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে তিনটায় পুলিশ প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করে। তাতে তারা পাঁচজন আহত হওয়ার তথ্য জানায়। পরে সন্ধ্যা ছয়টায় পুলিশ দ্বিতীয়বার ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। হামলাকারী ব্যক্তি সম্পর্কে ওরেব্রোর স্থানীয় পুলিশ প্রধান রবার্তো ইদ ফরেস্ট বলেন, “গুলি চালানোর আগে পর্যন্ত পুলিশ তাকে চিনত না এবং কোনো গ্যাং এর সাথে তার যোগসূত্র ছিল না।”

এই হামলার পেছনে কোনো সন্ত্রাসী উদ্দেশ্য ছিল বলে বিশ্বাস করেন না পুলিশ কর্মকর্তারা।

“আমরা গোয়েন্দা সংস্থার সাথে কাজ করছি। কিন্তু যতদূর আমি জানি, এ ব্যক্তিকে পুলিশ চেনে না।” বলেন মি. ফরেস্ট।

হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে সে সম্পর্কে কিছুই বলতে পারবেন না বলে জানান মি. ফরেস্ট।

স্কুলের শিক্ষিকা ওয়ারেন মার্ক জানিয়েছেন সুইডেনে এর আগেও স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলেও এতো বড় ঘটনা ঘটেনি। তবে জনগণকে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুমান না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা