www.HelloBangla.News – প্রতিবেদন – ৫ জানুয়ারি, ২০২: শার্ক পৃথিবীতে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে রয়েছে। ডাইনোসরের আগেও শার্ক ছিল, ডাইনোসরের যুগেও ছিল এবং তাদের বিলুপ্তির পরেও টিকে আছে। মানুষ আবির্ভূত হওয়ার অনেক আগে থেকেই শার্ক পৃথিবীতে বাস করছে। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে শার্কের শরীর তাদের জীবনযাপনের সঙ্গে এতটাই মানিয়ে নিয়েছে যে বড় ধরনের কোনো শারীরিক পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়নি।

বর্তমানে পৃথিবীতে ৪৫০টিরও বেশি প্রজাতির শার্ক রয়েছে, যারা বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্নভাবে জীবনযাপন করে। কিছু শার্ক গভীর সমুদ্রের ছোটখাটো শিকারি, আবার কিছু বিশাল আকৃতির শার্ক খোলা সমুদ্রে ফিল্টার ফিডার হিসেবে কাজ করে।

প্রবাল প্রাচীর এবং অগভীর সমুদ্রের আশেপাশে যেসব শার্ক আমরা বেশি দেখতে পাই, তারা বেশিরভাগই একা বা ছোট দলে বাস করে। পুরুষ এবং মহিলা শার্ক সাধারণত আলাদা থাকে এবং শুধুমাত্র প্রজননের সময় একত্রিত হয়।

অন্যান্য মাছের মতো শার্কের শরীরে গ্যাসে ভরা “সুইম ব্লাডার” থাকে না, যা তাদের ভাসমান অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে শার্ককে সবসময় গিলের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করে শ্বাস নিতে হয়। যদি পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে শার্ক শ্বাস নিতে পারবে না এবং ডুবে যেতে পারে।

শার্ক সমুদ্রের ইকোসিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা সমুদ্রের খাদ্য শৃঙ্খল বজায় রাখতে সহায়তা করে। শার্ক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে।

এছাড়াও, শার্কের কিছু প্রজাতি মানুষ ও সমুদ্র গবেষকদের জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয়। বড় প্রজাতির শার্ক যেমন হোয়েল শার্ক এবং গ্রেট হোয়াইট শার্ক সমুদ্রের বিশাল জীববৈচিত্র্যের একটি অংশ এবং তাদের পর্যবেক্ষণ সমুদ্রের পরিবেশ সম্পর্কে গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শার্কের এই দীর্ঘ টিকে থাকার ইতিহাস এবং তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্য তাদের প্রকৃতির অন্যতম রহস্যময় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী হিসেবে গড়ে তুলেছে।

শার্ক শুধুমাত্র সমুদ্রের অন্যতম প্রাচীন বাসিন্দা নয়, বরং সমুদ্রের ইকোসিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের টিকে থাকার ক্ষমতা এবং প্রজনন পদ্ধতি সম্পর্কে জানা আমাদের সমুদ্র পরিবেশ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতিক পরিবেশে অপরিবর্তিত থাকা এই প্রাণী আমাদের শেখায় কীভাবে প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায় এবং টিকে থাকা যায়।