www.HelloBangla.Newsআন্তর্জাতিক১১ জানুয়ারি, ২০২: যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের ভায়াবহ দাবানলে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুনে এ পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। দাবানল আক্রান্ত প্যাসিফিক প্যালিসেইডও ইটন এলাকায় রাত্রিকালীন কারফিউ দেয়া হয়েছে। তবে লস এঞ্জেলস পুলিশ প্রধান ম্যাকডনেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন সেখানে শুধু অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকেই অনুমতি দেয়া হবে।

এছাড়া যেসব অধিবাসীরা আক্রান্ত এলাকা ছেড়ে গেছে বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে এখনই তাদের না ফেরার অনুরোধ করেছেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যে পুলিশ ওইসব এলাকা থেকে কিছু ব্যক্তিকে আটক করলেও লুটপাটের জন্য কাউকে আটক করা হয়নি। ওদিকে বাতাস আরও তীব্র হওয়ার পূর্বাভাস থাকায় আগুন আবারো ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে।

লস এঞ্জেলস সিটি মেয়ার কারেস ব্যস শহরের অধিবাসীদের তার কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি আক্রান্ত এলাকা যতটা সম্ভব পরিদর্শন করবেন ও অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলবেন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্যালিফোর্নিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। 

নিউসন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে “আমাদের অবশ্যই কোন মানবিক বিপর্যয়কে রাজনীতিকরন করা উচিত নয়। কিংবা ভুল তথ্য ছড়ানোও উচিত না,”  

তিনি আরও জানিয়েছেন- “হাজার হাজার আমেরিকান তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং তারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতির দ্রুত উত্তরণ ও পুনর্গঠনে ‘আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টাই তারা ডিজার্ভ করে’।”

এখন পর্যন্ত কমপক্ষে দশ হাজার ঘরবাড়ি ও অন্য স্থাপনা দাবানলে ধ্বংস হয়ে গেছে। 

লস এঞ্জেলস কর্তৃপক্ষ দাবানলের ঘটনায় এখন পর্যন্ত এগার জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে পাঁচজন পালিসেইডস এলাকায় আর বাকী ছয় জন ইটনের আগুনের মারা গেছে। আলটাডেনা, মালিবু, প্যাসিফিক পালিসেইডস ও টোপাঙ্গায় এসব মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি ঘটনায় মৃতদেহের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে। তবে তাদের কোন পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আলটাডেনা ও পাসাডেনা এলাকার অধিবাসীদের ঘরবাড়িতে এখনি না ফেরার বিষয়ে সতর্ক করেছেন সেখানকার সিনেটর সাশা রিনি পেরেজ।

তিনি জানান, সেখানকার অধিবাসীরা এবারের মাত্রায় দাবানল আগে কখনো দেখেনি।

লস এঞ্জেলস ফায়ার ডিপার্টমেন্টের একজন ক্যাপ্টেন অ্যাডাম ভ্যান গার্পেন বলেছেন দমকল বাহিনীর কিছু কর্মীর কাছে পর্যাপ্ত পানি নেই।

 তিনি বলেন, “আমি এটা দেখেছি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা যা করি তা হলো অন্য জায়গা থেকে পানি এনে ট্যাংকে রাখি। তবে অবশ্যই এটা অগ্নিপ্রতিরোধ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে।”

তিনি বলেন, দমকল কর্মী হিসেবে তারা আশা করেন যে ফায়ার হাইড্রেন্টসগুলো ঠিক মতো কাজ করবে এবং তাতে পানির যথাযথ চাপ থাকবে।

এদিকে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান দ্যা ডিউজ এবং ডাচেস অব সাসেক্স পাসাডেনা এলাকায় একটি রিলিফ সেন্টার পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় মিডিয়ায় প্রচার হওয়া ফুটেজে দেখা যাচ্ছে হ্যারি ও মেগান মেয়র ভিক্টর গর্ডনের সাথে কথা বলছেন। তারা যেখানে কথা বলেছেন সেখানে বিতরণ করার জন্য খাবার তৈরি হচ্ছিলো।

এই দম্পতি চার বছর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটো বসবাস শুরু করেছিলাম। সেখান থেকে প্যাসিফিক পালিসেইডস মাত্র দেড় ঘণ্টার পথ। দাবানলে ওই এলাকাটিই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হওয়া এলাকাগুলোর একটি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা