www.HelloBangla.Newsআন্তর্জাতিক১৯  জানুয়ারি, ২০২: কার্যকর হয়েছে গাজার বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি। আজ রবিবার (১৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা এবাং বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে ৪২ দিনের বিরতিতে সম্মত হয়েছে হামাস-ইসরায়েল। ফলে লিফিস্তিনিরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। 

হামাস ইসরায়েলের তিনজন নারী জিম্মির নাম প্রকাশ করেছে, যাদের যুদ্ধবিরতির চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপে মুক্তি দেয়া হবে। টেলিগ্রামে এক পোস্টে তারা এসব নাম প্রকাশ করে। এরা হলেন রোমি গোনেন, এমিলি দামারি ও ডরন স্টেইনব্রেচার। ওদিকে হামাসের নাম প্রকাশের বিলম্বের মধ্যেই গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যাতে ১০ জন নিহত হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি জিম্মি ও ফিলিস্তিনি বন্দী বিনিময়ের চব্বিশ ঘণ্টা আগেই নামের তালিকা দেয়ার কথা। আজই প্রথম দফার এই বিনিময় হওয়ার কথা। এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে ২০১৪ সালে গাজা যুদ্ধে নিহত একজন ইসরায়েলি সেনার দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে তারা।

হামাস পরিচালিত গাজার সিভিল ডিফেন্স বলেছে, সকালে যে সময় থেকে যুদ্ধবিরতি শুরুর কথা ছিল, সেই সময় থেকে বিমান হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। যারমধ্যে ছয়জন গাজা সিটিতে, তিনজন উত্তরাঞ্চলে এবং একজন রাফায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন।

দখলদার ইসরায়েল এর আগে জানায়, হামাস যতক্ষণ পর্যন্ত জিম্মিদের নামের তালিকা না দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না। তাই সকালে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও; তাদের সেনারা হামলা অব্যাহত রাখে। এতে করে যুদ্ধবিরতিটি শুরু হওয়ার দিনই ১০ জন নিহত হয়েছেন। যারা আশা করছিলেন আজকে থেকে গাজায় নির্ভয়ে চলাচল করতে পারবেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টি ঘোষণা দিয়েছে।

ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ৭৩৭ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পাবেন। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা থেকে তাদেরকে মুক্তি দিতে শুরু করবে ইসরায়েল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ২৫১ জন জিম্মি আটক হলেও এ মুহূর্তে গাজায় ৯৪ জন অবস্থান করছেন বলে ইসরায়েল ধারণা করে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে নিহত হলেও তাদের মরদেহ হস্তান্তরকেও জিম্মি হস্তান্তরের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে ইসরায়েল। অপরদিকে, গাজা সীমান্তে হাজারো ত্রাণ ভর্তি ট্রাক অপেক্ষা করছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর মাহেন্দ্রক্ষণটি উপস্থিত হলেই ট্রাকগুলো দুর্দশাগ্রস্ত গাজাবাসীর কাছে মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেবে। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবেদলাত্তি জানান, অন্তত ৬০০টি ট্রাক আজ গাজায় প্রবেশ করবে। এগুলোর মধ্যে অন্তত ৫০টিতে জ্বালানি তেল থাকবে।

এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে এক সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

এদিকে এনবিসিকে শনিবার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার কারণেই যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন হতে চলেছে। তিনি বলেন, ‘আমি নেতানিয়াহুকে বলেছি, এই যুদ্ধের অবসান হতে হবে’।

মধ্যপ্রাচ্যে বাইডেন সরকারের প্রতিনিধি ব্রেট ম্যাকগার্ক ও ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এই চুক্তি চূড়ান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।