www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫: ভারতের উত্তরপ্রদেশে মহাকুম্ভ মেলায় পদদলিত হয়ে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১০ জন। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১ টার দিকে প্রয়াগরাজ জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলায় আগত পূণ্যার্থী জনতা গঙ্গাস্নানের উদ্দেশে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই গঙ্গা নদীর তীরে জড়ো হয়েছিলেন। আজ বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সূর্য ওঠার আগেই স্নান শেষের বাধ্যবাধকতা থাকায় ব্যাপক ভিড় ছিল গঙ্গার তীরে। তবে ঠিক কী কারণে পদদলনের ঘটনা ঘটল— তা এখনও জানা যায়নি।
মৃত্যুর ওই ঘটনা ঘটেছে মূলত সঙ্গম নোজে। “সঙ্গম নোজ” বলতে সাধারণত সেই স্থানকে বোঝানো, যেখানে প্রয়াগরাজ শহরে তিনটি নদী – গঙ্গা, যমুনা এবং কাল্পনিক সরস্বতী – মিলিত হয়েছে। এসব নদীকে হিন্দু ধর্মবিশ্বাসীরা পবিত্র বলে মনে করেন। এই সঙ্গম নোজ-ই কুম্ভ মেলার প্রধান স্থান।
মেলার একজন কর্মকর্তা বলেন,”সঙ্গম নোজ এলাকায় একটি হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং কিছু ব্যারিকেডও ভেঙ্গে যায়। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে গুরুতর নয়। এবং, তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন।”
প্রয়াগরাজ শহরের নদীর তীরে ঘুমিয়ে থাকা মানুষদেরকে স্নান করতে যাওয়া অন্য মানুষেরা পদদলিত করার কারণে এমনটা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মধ্যরাত সোয়া একটা থেকে দুইটার দিকে একদল ভক্ত পুলিশের বাধা টপকে সঙ্গমস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। গঙ্গা, যমুনা ও কাল্পনিক স্বরস্বতী নদীর সঙ্গমস্থলকে পবিত্রতম স্থান বলে গণ্য করা হয়, যেখানে সবাই স্নান করতে চান। তারা বিশ্বাস করেন, এর ফলে তাদের সব পাপ ধুয়ে যাবে এবং তারা মুক্তি পাবেন।
বাংলাদেশ সময় সকাল নয়টার দিকে মাত্র পাঁচ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকে ১০টি অ্যাম্বুলেন্স বেরিয়েছেন। ঘণ্টা তিন-চারেক আগের পরিস্থিতিও ছিল অনেকটা এমনই। এদিন ভোর পাঁচটার দিকে মাত্র১৫ মিনিটের মাঝে অন্তত ২০টি অ্যাম্বুলেন্স বের হতে দেখা গেছে।
এদিকে এখনও হাজার হাজার মানুষ উৎসবে যোগ দিতে আসছেন। যদিও তাদের চোখে-মুখে উত্তেজনার ছাপ ছিল স্পষ্ট। বিভিন্ন চেকপয়েন্ট জুড়ে ছিল বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি।
সুনীল গোস্বামী ও রামজি কর নামক দুই ভক্ত বলছিলেন যে তারা প্রায় পুরো একদিন হেঁটেছেন, তবু তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। বেশ কয়েকটি চেকপয়েন্টে পুলিশের সঙ্গে ভক্তদের তর্কাতর্কি হতে দেখা গেছে। এমনকি, একটি চেকপয়েন্টে এও দেখা গেছে যে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদেরই সহকর্মীদেরকে অনুরোধ করছেন, যাতে মানুষজন ব্যারিকেড পার হতে পারেন।
সঙ্গম নোজ প্রয়াগরাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্নানস্থল। এই স্থানটি হিন্দু সাধুদের স্নানের জন্য নির্দিষ্ট এবং এটি ভক্তদের কাছেও অত্যন্ত প্রিয়।
সেখানকার বিশাল জনসমাগম সামলাতে নদীর তীর পুনরুদ্ধার করে এলাকা সম্প্রসারণ করেছে। সেখানে এখন প্রতি ঘণ্টায় ৫০ হাজারের পরিবর্তে দুই লাখ মানুষ একসাথে স্নান করতে পারেন।