www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫: টানা সপ্তমবারের মতো বেলারুশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে আবারও দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কো। রবিবার বেলারুশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে, সোমবার তার ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল বেল্টাকে বেলারুশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইগর কারপেঙ্কো সোমবার সকালের দিকে জানান, মোট ভোটের ৮৬ দশমিক ৮২ শতাংশ নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছেন লুকাশেঙ্কো। তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কেউই ৫ শতাংশের বেশি ভোট পাননি।
গত কয়েকবারের মতো বেলারুশের এবারের নির্বাচনটিও ছিল বিতর্কিত। নির্বাচনে যে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তারা সকলেই লুকাশেঙ্কোর অনুগত এবং তার ৩০ বছরের শাসনকে প্রশংসা করে আসছেন।
দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, লুকাশেঙ্কো ৮৬.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
এই নির্বাচনে জয়ের ফলে লুকাশেঙ্কো ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। বেলারুশের ইতিহাসে লুকাশেঙ্কো প্রথম ও একমাত্র নেতা যিনি টানা ৭ বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। লুকাশেঙ্কো ১৯৯৪ সাল থেকে দেশটি শাসন করছেন। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বেলারুশ। স্বাধীনতার পর দেশটির অস্থায়ী সরকারপ্রধান ছিলেন সাবেক সোভিয়েত বেলারুশ অঙ্গরাজ্যের চেয়ারম্যান স্তানিস্লাভ শুশকেভিচ। এরপর ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় বেলারুশে এবং তাতে জয়ী হন লুকাশেঙ্কো।
এর আগে, ২০২০ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর লুকাশেঙ্কো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। পশ্চিমা দেশগুলো তাঁর বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনেছিল। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। সেই নির্বাচনের পর ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয় এবং পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ট বিরোধী নেত্রী সভেৎলানা তিখানোভস্কা দাবি করেন, তিনি বেলারুশের ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ এবং পশ্চিমা বিশ্বের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন লুকাশেঙ্কোকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, নির্বাচনে আপনার বিজয় স্পষ্টভাবে আপনার উচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব এবং বেলারুশের রাষ্ট্রনীতির প্রতি জনসাধারণের অব্যাহত সমর্থনের সাক্ষ্য দেয়।
ইউক্রেন যুদ্ধ লুকাশেঙ্কোকে পুতিনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে বেঁধে ফেলেছে এবং বর্তমানে রাশিয়ার ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র বেলারুশে মোতায়েন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, লুকাশেঙ্কোর ক্ষমতাটা পুতিনের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।