www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ০৬ জানুয়ারি, ২০২৫: কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো আগামী সপ্তাহে তার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে খবর পাওয়া গেছে। দলীয় নেতাদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কানাডার শীর্ষ সংবাদ মাধ্যম Globe and Mail সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বুধবার লিবারেল পার্টির জাতীয় ককাস বৈঠকের আগেই তিনি এই ঘোষণা দিতে পারেন, যাতে এটি না বোঝায় যে তাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত মাসে অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর কঠোর সমালোচনা করেন। এর পর থেকেই তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।

নেতৃত্ব নিয়ে লড়াইয়ের শঙ্কা

জাস্টিন ট্রুডোর বিদায় নেওয়ার পর লিবারেল পার্টির ভেতরে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এ ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন কানাডার জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানিকৃত সব পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপ করবেন।

২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে কানাডায় পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, কনজারভেটিভ পার্টি লিবারেলদের চেয়ে ২৫ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ৩৯% কানাডিয়ান মনে করেন কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পোলিয়েভ্র ট্রাম্পের মতো নেতার সঙ্গে আরও ভালোভাবে সমঝোতা করতে সক্ষম হবেন, যেখানে মাত্র ১৪% ট্রুডোকে সেই দায়িত্বের উপযুক্ত মনে করেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ও শুল্কের হুমকি

ট্রুডো এবং তার সহকর্মীরা নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মার-আ-লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। বৈঠকের পর ট্রাম্প এটিকে “অত্যন্ত ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমেরিকান শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন ন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি” নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প মজা করে ট্রুডোকে প্রস্তাব দেন যে কানাডা যদি শুল্কের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হতে পারে। পরবর্তীতে ট্রুডো এক বক্তব্যে বলেন, “শুল্ক আরোপ করলে আমেরিকানদের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাবে।” ট্রাম্প এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় Truth Social প্ল্যাটফর্মে ট্রুডোকে বিদ্রূপ করে লেখেন, “গ্রেট স্টেট অব কানাডার গভর্নর জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে ডিনারে বসে বেশ আনন্দ পেয়েছি।”

কানাডার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

ট্রাম্প তার শপথ নেওয়ার পর প্রথম নির্বাহী আদেশে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মেক্সিকো থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের একটি কাফেলা আমাদের সীমান্তে ঢুকে পড়ছে। এই সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক আরোপ থাকবে।”

জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের খবরে কানাডার রাজনীতিতে অস্থিরতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিদায়ের পর দলীয় নেতৃত্বের লড়াই ও ট্রাম্পের শুল্ক নীতি নিয়ে দেশটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে পারে।