www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৫ জানুয়ারি, ২০২৫: নাডার ফেডারেল সরকার অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। নতুন নিয়মাবলী এবং কোটার মাধ্যমে স্থায়ী ও অস্থায়ী অভিবাসীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানান, কোভিড-১৯ পরবর্তী শ্রম ঘাটতি পূরণে অভিবাসনের হার বাড়ানো হলেও, বর্তমানে এটি দেশের আবাসন ও সামাজিক সেবায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানোর জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৫ সালে কতজন অভিবাসীকে গ্রহণ করবে কানাডা?
২০২৫ সালে কানাডায় নতুন অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC) জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো অস্থায়ীভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার থামানো।
নতুন পরিবর্তন গুলো হলো:
- স্থায়ী বাসিন্দা (PR) টার্গেট কমিয়ে ৩৯৫,০০০ করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ৫০০,০০০ থেকে কম।
- ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে PR টার্গেট হবে যথাক্রমে ৩৮০,০০০ এবং ৩৬৫,০০০।
অস্থায়ী অভিবাসীদের (NPR) সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কানাডা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেবে:
- NPR জনসংখ্যার অনুপাত ৬.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
- ২০২৫ সালের মধ্যে মোট NPR জনসংখ্যা ৮৯০,০০০ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালে PR স্ট্যাটাস পাওয়ার সুযোগ
IRCC-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন PR স্ট্যাটাসপ্রাপ্তদের ৪০ শতাংশের বেশি ইতোমধ্যেই কানাডায় বসবাসরত অস্থায়ী অভিবাসী (NPR) থেকে আসবে। নতুন PR স্ট্যাটাসপ্রাপ্তদের মধ্যে অধিকাংশই অর্থনৈতিক অভিবাসী হিসেবে আসবে। এছাড়া, ২৫ শতাংশ পারিবারিক অভিবাসী এবং বাকি অংশ শরণার্থী ও সুরক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।
কানাডার ফ্রেঞ্চ-ভাষী সম্প্রদায়কে সমর্থন করার জন্য, ২০২৫ সালে নতুন PR স্ট্যাটাসপ্রাপ্তদের ৮.৫ শতাংশ ফ্রেঞ্চ ভাষাভাষী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১০ শতাংশে উন্নীত হবে।
অস্থায়ী শ্রমিকদের জন্য নতুন নিয়মাবলী
২০২৫ সালে অস্থায়ী অভিবাসীদের বেশিরভাগই শ্রমিক হিসেবে কানাডায় প্রবেশ করবে। নতুন নীতিমালায় অস্থায়ী শ্রমিক কর্মসূচিতে (Temporary Foreign Worker Program – TFW) কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে।
নতুন নিয়মগুলো:
- আন্তর্জাতিক মাস্টার্স ছাত্রদের স্বামী বা স্ত্রী শুধুমাত্র তখনই ওয়ার্ক পারমিট পাবেন, যখন শিক্ষার মেয়াদ ১৬ মাস বা তার বেশি হবে।
- বিদেশি শ্রমিকদের স্বামী বা স্ত্রী ওয়ার্ক পারমিট পাবেন শুধুমাত্র তখন, যখন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন বা চাহিদাসম্পন্ন খাতে কাজ করবেন।
- পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদনকারীদের নতুন ভাষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।
- আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটরা শুধুমাত্র সেসব ক্ষেত্রেই ওয়ার্ক পারমিট পাবেন, যেগুলো স্বীকৃত শ্রম ঘাটতি পূরণে সহায়ক।
ইমিগ্রেশন মন্ত্রী মার্ক মিলার জানিয়েছেন, এই নতুন নিয়মাবলী ২০২৫ সালের মধ্যে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের সংখ্যা প্রায় ১,৭৫,০০০ কমিয়ে আনবে।
TFW কর্মসূচিতে পরিবর্তন
TFW কর্মসূচির আওতায় নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে:
- নিম্ন-আয়ের চাকরিতে, একজন নিয়োগকর্তা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কর্মী TFW কর্মসূচির আওতায় নিয়োগ দিতে পারবেন।
- ছয় শতাংশের কম বেকারত্বের এলাকাগুলোতেই নতুন TFW আবেদন গ্রহণ করা হবে।
- নিম্ন-আয়ের চাকরির মেয়াদ দুই বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করা হয়েছে।
- উচ্চ-আয়ের চাকরির জন্য ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক গড় বেতনের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য নিয়মাবলী
২০২৪ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক ছাত্র ভিসায় কোটার ভিত্তিতে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
২০২৫ সালে ছাত্র ভিসা অনুমোদনের সংখ্যা ৪৮৫,০০০ থেকে কমিয়ে ৪৩৭,০০০ করা হবে, যা প্রায় ৩ লক্ষ ৫ হাজার ৯০০ নতুন আন্তর্জাতিক ছাত্রকে কানাডায় নিয়ে আসবে।
নতুন নিয়মাবলী অনুযায়ী:
- মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনকারী ছাত্রদেরও কোটার আওতায় আনা হয়েছে।
- ফুল-টাইম ছাত্ররা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে পারবেন। ছুটির সময়ে তারা পূর্ণকালীন কাজ করতে পারবেন।
শরণার্থী ও সুরক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য নিয়মাবলী
২০২৫ সালের মধ্যে শরণার্থী ও সুরক্ষিত ব্যক্তিদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। ২০২৫ সালে ৫৮,৩৫০ জন শরণার্থী গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২৬ ও ২০২৭ সালে আরও কমিয়ে আনা হবে।
নতুন নীতিমালায় ব্যক্তিগত গোষ্ঠীর মাধ্যমে শরণার্থী স্পনসরশিপ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে IRCC ঘোষণা করেছে যে ১০ বছর মেয়াদি, একাধিকবার প্রবেশযোগ্য ভিসা আর স্ট্যান্ডার্ড নথি হিসেবে দেওয়া হবে না। এখন থেকে ভিসার মেয়াদ ও শর্তাবলী নির্ধারণ করা হবে ভিসা কর্মকর্তার বিবেচনায়।
কানাডায় এই পরিবর্তনের প্রভাব
IRCC-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে কানাডার জনসংখ্যা ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। নতুন নীতিমালার ফলে আবাসন সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী তিন বছরে প্রায় ৬,৭০,০০০ বাড়ির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল ডনেলি বলেছেন, আবাসন ও অভিবাসন একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। জনগণের মধ্যে সরকারের উপর থেকে কিছুটা আস্থা হারানোর প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “কানাডিয়ানদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণভাবে সফল নয়। এই বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে সময় লাগবে এবং এর মধ্যে একটি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
কানাডার অভিবাসন নীতিতে এই বড় পরিবর্তনগুলো বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেসব নাগরিক কানাডায় স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া, শিক্ষার্থী ভিসা পাওয়া, অথবা অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে। তাই নতুন নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।